সময় এবং তারিখ

ঢাকা,বাংলাদেশ 

Tuesday, October 22, 2019

Diabetic / ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম-০৫

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম-০৫

এমন কিছু প্রমাণিত উপায় রয়েছে যেগুলো নিয়মিতভাবে মেনে চললে আপনি জীবনে কখনো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন না। যদি না আপনার পরিবারের ডায়াবেটিসের কোনো ইতিহাস না থাকে।

১. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
দেহের ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত রাখার মধ্য দিয়ে শুধু ডায়াবেটিসই নয় বরং আরো নানা ধরনের রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকা যায়। স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০% কমে আসবে।
২. সালাদ খান
প্রতিদিন অন্তত এক বাটি সালাদ খান। যার মধ্যে থাকবে গাজর, শসা, লেটুস, টমেটো, পেঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি। প্রতিদিন দুপুরে বা রাতে খাবার খাওয়ার আগে এই সালাদ খেতে হবে। সালাদে এক চা চামচ ভিনেগারও যুক্ত করতে পারেন। ভিনেগার রক্তকে কমমাত্রায় সুগার শোষণে সহায়তা করে। আর রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমবে।
৩. প্রচুর হাঁটাহাঁটি করুন
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক সেরা ব্যায়ামগুলোর একটি হাঁটাহাঁটি। প্রতিদিন অন্তত ৪০মিনিট হাঁটাহাঁটি করলেই আপনার বিপাকীয় হার এমন পর্যায়ে থাকবে যা আপনার দেহে ইনসুলিনের মাত্রাকেও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখতে যথেষ্ট। ফলে ডায়াবেটিসেরও ঝুঁকিও কমে আসবে।

৬. ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন
আজকাল চাইলেই হাতের কাছে পাওয়া যায় নানা ধরনের ফাস্টফুড। যা দেখে হয়তো লোভ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। কিন্তু ফ্রাইস, পিজ্জা, বার্গার এর মতো ফাস্ট এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে স্থুলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, হজমে সমস্যা এবং হৃদরোগের মতো নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এসব খাবার দেহে ইনসুলিনের মাত্রায়ও ক্ষতিকরভাবে হেরফের ঘটিয়ে দিতে পারে। যা থেকে ডায়াবেটিসও হতে পারে।
৭. স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকুন
মাথা ব্যথা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগও হতে পারে অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে। সুতরাং আপনি যদি এমন কেউ হন যিনি প্রায়ই তীব্র মানসিক চাপে থাকেন তাহলে রিল্যাক্স করার নানা কৌশল এবং যোগ ব্যায়াম করে স্ট্রেস কমান। এতে আপনার দেহে কর্টিসোল হরমোনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাবে।
৮. ধুমপান ত্যাগ করুন
স্ট্রেসের মতোই ধুমপানও নানা ধরনের মারাত্মক রোগের আরেকটি কারণ। ফুসফুস ক্যান্সার এর মতো ভয়ঙ্কর রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিসেরও একটি কারণ ধুমপান। সুতরাং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে না চাইলে আজই ধুমপান ছেড়ে দিন।

ডায়াবেটিস / Diabetic রোগীর ব্যায়াম-০৪

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম-০৪

- হাট-বাজার নিজেই করবেন
- লিফট ব্যবহার না করে সিড়িদিয়ে উঠবেন ।
- অল্প দুরত্বে যানবাহন ব্যবহার না করে হাটবেন।
- অল্প দুরের কাজ টেলিফোনে না সেরে নিজে যাবেন।
- কাজের ফাকে ফাকে যেমন অফিস টিফিনের সময় গল্প গুজবে, খাওয়াতে

ব্যয় না করে একটু ঘুরে বেড়াবেন।

- বাচ্চাদের সাথে খেলা করবেন।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে রোগীর কি কি জটিলতা দেখা দিতে পারে ?
ডায়াবেটিসের প্রধান জটিলতা গুলো হচ্ছে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি।

যেমন - 
- হাত পায়ে গ্যাংরীন বা ঘাঁ।

- মস্তিষ্কে স্ট্রোক,
- হৃৎপিন্ডে হার্ট এটাক বা মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশান
- চোখে রেটিনার ক্ষতি করে যাকে ডায়বেটিক রেটিনোপ্যাথি বলে ।
- কিডনীর ক্ষতি ।
- নার্ভের ক্ষতি হয় যাকে ডায়বেটিক নিউরপ্যাথি বলে ।
এই সব গুলোই ব্যায়াম করে নিয়ন্ত্রন করতে পারেন ডায়াবেটিসের রোগীরা।
উপদেশঃ-
 ১। ব্যায়াম করার জন্য একজন বন্ধু খুজে নেন। একা একা ব্যায়ামে গাফিলতি হলেও

বন্ধুদের সাথে ব্যায়াম করতে খারাপ লাগবে না।

২। কতটুকু ব্যায়াম করলেন বা কতটুকু এগুলেন তার রেকর্ড রাখুন। ব্যায়ামের

লক্ষ্যে পৌছলে নিজের জন্য পুরস্কার ঠিক করে রাখুন, যেমন নির্দিষ্ট লক্ষে
পৌছলে বেড়িয়ে এলেন বা নিজ়ের জন্য কিছু একটা কিনলেন। সবচেয়ে গুরত্বপুর্ন
কথা হল ব্যায়াম চালিয়ে যাবেন। কখনই ছেড়ে দেবেন না। ব্যায়ামের সুফল
পেতে হলে থামাচলবে না। অল্প কয়েক দিনে এর সুফল পাবেন না। সুতরাং
ব্যায়ামে লেগে থাকাই হল এর সুফল পাওয়ার শ্রেষ্ট উপায়।

৩। নিয়মিত ব্যায়াম করুন ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখুন ।
এমন কিছু প্রমাণিত উপায় রয়েছে যেগুলো নিয়মিতভাবে মেনে চললে আপনি জীবনে কখনো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন না। যদি না আপনার পরিবারের ডায়াবেটিসের কোনো ইতিহাস না থাকে।
(সংগৃহীত)

ডায়াবেটিস / Diabetic রোগীর ব্যায়াম-০৩

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়াম-০৩

- ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ব্যায়াম বয়স বৃদ্ধিতে কমাতেও উপকারি। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন
তাদের একই বয়সের লোকদের থেকে কম বয়স্ক দেখায়।
- নিয়মিত ব্যায়াম যৌন ক্ষমতা অটুট রাখে।
- ব্যায়াম ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধেও উপকারী । নিয়মিত ব্যায়াম করলে
ডায়াবেটিস দেরিতে হবে অথবা নাও হতে পারে।
ডায়বেটিস আক্রান্ত রোগীরা কি ধরনের ব্যায়াম করবেন ?
বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম।
যেমন -
১। এরোবিক ব্যায়াম
২। স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম
৩। স্ট্রেচিং বায়াম
৪। ব্যালান্সিং ব্যায়াম
এরোবিক ব্যায়ামঃ-
সাধারন ভাবে ব্যায়াম বলতে যে গুলোকে বোঝায় তা হল এরবিক বায়াম।
যেমন - হাটা দৌড়ানো, জগিং, বাই সাইকেল চালান,সাঁতার কাটা ইত্যাদি। এই ব্যায়ামে শরীরের অনেক গুলো মাংশপেশী অনেক ক্ষন ধরে কাজ করে ফলে শক্তি ক্ষয় হয়।এই ব্যায়ামে নাড়ীর গতি শ্বাসপ্রশ্বাস, বাড়বে।
স্ট্রেংথেনিং ব্যায়ামঃ-
স্ট্রেংথ মানে হল শক্তি।মাংশপেশীর শক্তি বাড়ানোর জন্য এই ধরনের ব্যায়াম। এই বায়ামে কাজ করতে হয় বেশী যেমন ওজন তোলা বা স্প্রিং টানা ইত্যাদি।
স্ট্রেচিং ব্যায়ামঃ –
মাংশপেশী এবং গিঠের জড়তা কাটিয়ে সচল করাই হল এই ব্যায়ামের উদ্দেশ্য।এরবিক ব্যায়াম শুরু করার আগে স্ট্রেচিং করা উচিত।
ব্যালান্সিং ব্যায়ামঃ-
ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এই বায়াম।যেমন এক পায়ের উপর দাঁড়ানো। এই ব্যায়াম চলাচল করতে সাহায্য করে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা করে।
সপ্তাহে কয়দিন ও কতক্ষন ব্যায়াম করবেন?
সপ্তাহের অধিকাংশ দিন (কমপক্ষে ৫ দিন) এবং দিনে ৩০ মিনিট এরোবিক ব্যায়াম অধিকাংশ সুফল বয়ে আনে। এক নাগাড়ে ৩০ মিনিট ব্যায়াম না করতে পারলে ১০ মিনিট করে দিনে ৩ বার ব্যায়াম করলেও হবে। প্রতিদিন ৩ বার খাওয়ার আগে ১০ মিনিট করে ব্যায়াম একটা সুবিধাজনক ব্যায়াম।
ব্যায়াম করার কোন নিয়মাবলী আছে কি ?
ব্যায়াম শুরু করতে কোন সমস্যা নেই তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে কোন জটিলতা আছে কিনা তার জন্য ডাক্তার দেখিয়ে নেওয়া ভাল ।
অল্প ব্যায়াম দিয়ে শুরু করবেন ধীরে ধীরে বাড়াবেন। প্রতিদিন ৫ মিনিট করে বাড়িয়ে সপ্তাহে ১৫০ থেকে ২০০ মিনিট করে ব্যায়াম করা আপনার লক্ষ্য থাকবে।
ব্যায়াম শুরুতে কিছুক্ষন অল্পস্বল্প ব্যায়াম করে নেবেন যেটা হল “ওয়ার্ম আপ” সাথে
কিছু স্ট্রেচিং ব্যায়াম এবং শেষ করার সময় ও হঠাৎ করে থেমে যবেন না শেষ ৫ মিনিট আস্তে আস্তে কমিয়ে ব্যায়াম করা থামাবেন যেটা হল “ কুল ডাউন” ।
যত বেশী ব্যায়াম করবেন তত বেশী শক্তি ক্ষয় হবে এবং গ্লুকোজকে নিয়ন্ত্রনে রাখা তত সহজ হবে। এরোবিক ব্যায়ামের পাশাপাশি স্ট্রেংথেনিং ব্যায়াম করতে হবে সপ্তাহে ২/৩ দিন। এটা হতে পারে ওজন ওঠান নামানো বা স্প্রিং টানা।
ব্যায়াম শুরুর আগে কি কি বিষয় ঠিক করে নেওয়া উচিত ?
কি বায়াম করবেন
•
কতক্ষন করবেন
•
কতবার করবেন
•
কখন করবেন
•
কি ধরনের পোষাক, জুতো পরবেন।
•
ইচ্ছাকৃত ব্যায়াম না করতে পারলে অন্য কি ব্যায়াম করতে পারেন।
•
কিভাবে ব্যায়াম বাড়াবেন।
•
কতদুর যাবেন।
কখন ব্যায়াম করবেন না ?  
এটা নির্ভর করবে আপনার দৈনন্দিন কাজ, খাবারের সময়, ডায়াবেটিসের জন্য কখন কি ঔষধ খাচ্ছেন ,রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ইত্যাদির উপর।
১। রক্তে খাওয়ার পর গ্লুকোজের মাত্রা ৩০০ মি গ্রা বা খালি পেটে ২৫০ মি গ্রা এর
উপর থাকলে ব্যায়াম করবেন না।
২। খাওয়ার পর-পরি ব্যায়াম করবেন না।
৩। আমাদের মত গ্রীষ্ম প্রধান দেশে তাপমাত্রাও মাথায় রাখার বিষয়। প্রচণ্ড
রোদের মধ্যে ব্যায়াম করবেন না কারণ অতিরিক্ত তাপমাত্রাতে শরীর থেকে
পানি বেরিয়ে পানিশুন্যতা দেখা দিতে পারে সেই হিসাবে ভোর বা সন্ধ্যাতে
ব্যায়াম করাই উত্তম।
ব্যায়াম করার সময় কিছু বিষয় লক্ষ্য করা উচিত ?
জোরে জোরে হাটা সবচে উৎকৃষ্ট ব্যায়াম। তবে পারিপার্শিকতা মাথায় রাখা ভাল।
- যেমন হাটুতে যদি অস্টিওয়ারথ্রাইটিস (এই বয়সে সাধারনত থাকে) থাকে,
বা নার্ভের ক্ষতির কারনে পায়ে অনুভুতি কম থাকে তখন তখন হাটলে হাটুর
ব্যাথা বাড়তে পারে বা পায়ে ফোসকা পড়ে ঘা হতে পারে।
- হাটার সময় মাপসই আরামদায়ক জুতো তুলার মোজা ব্যাবহার করবেন।
হাটার পর সব সময় পা পরীক্ষা করে দেখবেন যখনি পায়ে ফোসকা কাটা,
ব্যাথা বা পা লাল হওয়া দেখবেন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।
ব্যায়াম এর কারনে কি ব্লাড সুগার কমে যেতে পারে ?
আপনি যদি ইনসুলিন নেন, সালফোনিউরিয়া বা মেগ্লিটিনাইড ডায়াবেটিসের ঔষধ খান তবে ব্যায়ামের ফলে রক্তে গ্লূকোজ়ের মাত্রা বিপদজনক ভাবে কমে যেতে পারে। এটাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া।
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষন হল -
o
মাথা ঘোরা,
o
নাড়ীর গতি বেড়ে যাওয়া,
o
ক্ষুধা লাগা ,
o
দুর্বল লাগা বা ক্লান্তি অনুভব করা
o ঘাম হওয়া, মাথা ধরা ইত্যাদি।
খুব বেশী কমে গেলে অজ্ঞান হয়ে ফিট হয়ে যেতে পারেন। যাদের একবার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয় তারা এর লক্ষন গুলো আরম্ভ হলেই বুঝতে পারেন।
হাইপোগ্লাইসেমিয়া পরিহারের উপায় –
o বায়াম শুরু করার আগে রক্তে গ্লূকোজের মাত্রা দেখে নেবেন। ১০০মিগ্রা এর
নীচে হলে অল্প কিছু খেয়ে নেবেন।
o যদি ইনসুলিন নেন তবে ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। ব্যায়াম করার সময়
পকেটে অল্প কিছু গ্লুকোজ, চিনি বা মিস্টি ফলের রস রাখবেন।খারাপ লাগা
শুরু হলেই খেয়ে নেবেন।
o যদি অনেক ক্ষন ব্যায়াম করতে হয় তবে ব্যায়াম শেষ করার আগেও কিছূ
খেয়ে নিতে পারেন।
o বায়ামের শেষে আবার রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করুন।তা থেকে কি
পরিমান ব্যায়াম কতটুকু গ্লুকোজ কমায় সে ব্যাপারে ধারনা পাবেন।
o একটু বেশী করে পানি খাবেন , ব্যায়াম শুরুর আগে, ব্যায়াম করার সময়
বা পরে।
o স্বল্প মুল্যে রক্তের গ্লূকোজ পরীক্ষার যন্ত্র কিনতে পারেন যার মাধ্যমে
প্রতিদিন রক্তের গ্লূকোজ পরীক্ষা করে নিতে পারেন ।
জীবন যাত্রা প্রনালির পরিবর্তনঃ-
কায়িক পরিশ্রম বেশী হয় এমন ভাবে কাজ নির্ধারন করুনঃ-
- বাসার কাজ নিজে করবেন, ঘর নিজেই পরিস্কার করবেন।
- সময় থাকলে বাগান বা শবজি চাষ করবেন।