মৃত্যুর মোড় থেকে ফিরে আসা
ছুটি মানেই পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার এক অদ্ভুত টান।
প্রতিদিনের
কর্মব্যস্ততা...
আমি, দিগন্ত কুমার রায়, জুনিয়র এইচ.আর.
অফিসার, আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন, কর্পোরেট অফিস, মগবাজার, ঢাকায় কর্মরত। ২০২৬ সালের ঈদুল
আযহার ছুটি; বাড়িতে গিয়ে ৩০ মে ২০২৬ তারিখ
শ্বশুরবাড়ি, পশ্চিম ধওলাই, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) নিমন্ত্রণে যাওয়া হয়। সঙ্গে ছিল আমার
সহধর্মিণী গৌরী রানী, কন্যা হিয়া রায় হৃদি এবং আমার ভাই পল্লব কুমার রায়।
খাওয়া-দাওয়া শেষে প্রথমে ভাইকে বাড়িতে পৌঁছে দিই। এরপর বাড়ি থেকে আমার মা’কে মামার
বাড়িতে রেখে আবার শ্বশুরবাড়ি ফিরে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিই,
কারণ পরদিন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে হবে। কারন, ১ জুন ২০২৬ তারিখ অফিস খুলবে।
আমি, আমার স্ত্রী ও আমার কন্যা সহ রাত আনুমানিক ১০.৩০ মিনিটে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেই।
রাস্তা একদম ফাঁকা ছিল। আমরা কৈটারী, চামটাহাট পেড়িয়ে মোটা সন্নাসীর থান
নামক স্থান পেরিয়ে রাস্তার একটি মোড়ে পৌঁছিলাম। সময় তখন আনুমানিক রাত ১০.৫০ মিনিট । চলন্ত অবস্থায় সেই মোড়ে
অপর প্রান্ত থেকে আসা এক সাইকেল আরোহীর সঙ্গে আমাদের স্কুটারটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হল।
স্কুটার রাস্তায় পড়ে গেলো।
আমার স্ত্রী রাস্তার ওপর পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান
এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তা দেখে মেয়েটি আমার ভয় পেয়ে যায়, আর আমি মুহূর্তের জন্য
দিশেহারা হয়ে পড়ি।
ঠিক তখনই কয়েকজন অচেনা বাইকার এগিয়ে আসেন। তারা আমাদের নিকটস্থ ডাক্তারের চেম্বারে
নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা হয়। আমি আমার শ্যালক মিঠুন রায়কে ফোন দিলে সে খুব তাড়াতাড়ি সেই ডাক্তারের চেম্বারে চলে আসে।
পরবর্তীতে আমার অন্য এক শ্যালক মৃনাল রায়
(মামা শ্বশুরের ছেলে) আমাদের সাথে যুক্ত হন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মিঠুন রায় সহ সবাই শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে যাই।
আমাদের এরকম অবস্থা দেখে সবাই বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। পরদিন থেকে আমার স্ত্রীর
চিকিৎসা শুরু হয়।
এবং আমি দায়িত্বের তাগিদে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিই। সেই রাত আমাকে শিখিয়েছে—জীবনের
সবচেয়ে বড় সম্পদ পরিবার, আর আপনজন। যারা বিপদে পড়লে শত ব্যস্ততার মাঝে একটি ফোনকল পেয়ে
ছুটে আসেন, রাত ১২টায় ঘুমে গিয়েও খবর পেয়ে ছুটে চলেন সেই ফোনকলের দিকে। আমি ধন্য, আমি
তৃপ্ত এমন পরিবার পেয়ে।
আমি কৃজ্ঞতা জানাই, সেই রাতের অচেনা বাইকারগণকে, সর্বপ্রথম
যারা নিঃস্বার্থভাবে আমাকে, আমার পরিবারকে নিয়ে ছুটে গিয়েছিল ডাক্তারে কাছে। তাদের
প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।
সৌজন্যে-
দিগন্ত কুমার রায়
জুনিয়র এইচ.আর. অফিসার
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন, কর্পোরেট অফিস
২ বড় মগবাজার,
ঢাকা-১২১৭ ।
মোবাইল:
01717-113087
ইমেইল: digantaroy295@gmail.com
No comments:
Post a Comment