সময় এবং তারিখ

ঢাকা,বাংলাদেশ 

Thursday, October 31, 2019

নরেন্দ্র মোদী/Narendra Modi

                 নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী

  (গুজরাটি: નરેન્દ્ર દામોદરદાસ મોદી; এই শব্দ সম্পর্কেউচ্চারণ শুনুন , জন্ম ১৭ই সেপ্টেম্বর, ১৯৫০) ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী। এই রাজনীতিবিদ ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত ষোড়শ সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টিকে নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে বহুমতের দ্বারা জয়লাভ লাভ করেন এবং ২৬শে মে ভারতের পঞ্চদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি গুজরাটের চতুর্দশ মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
মোদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ নামক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের একজন সদস্য এবং সংবাদমাধ্যম ও বিদগ্ধজনের মতো তিনি নিজেকে একজন হিন্দু জাতীয়তাবাদী হিসেবে দাবী করেন।
২০০২ খ্রিষ্টাব্দের গুজরাত দাঙ্গার ঘটনায় তার প্রশাসন সমালোচিত হওয়ায় ভারত ও বিদেশে তার সমালোচনা হয়। কিন্তু গুজরাটের অর্থনৈতিক উন্নতির বৃদ্ধিতে সহায়ক পরিবেশ গঠনের জন্য তিনি তার আর্থিক নীতির জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। অন্যদিকে তার রাজ্যের মানবোন্নয়নের ওপর গঠনমূলক প্রভাব বিস্তারে তার প্রশাসনে্র অক্ষমতার জন্য তিনি সমালোচিতও হয়েছেন।

প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা

নরেন্দ মোদী ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই সেপ্টেম্বর বম্বে প্রেসিডেন্সির (বর্তমান গুজরাট রাজ্যের) মহেসানা জেলার বড়নগর নামক স্থানে ঘাঞ্চী তেলী সম্প্রদায়ের এক নিম্নবর্গের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার পিতামাতার চার সন্তানের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তার পিতার নাম দামোদারদাস মূলচাঁদ মোদী ও মায়ের নাম হীরাবেন মোদী। বড়নগর রেলস্টেশনে তিনি তার পিতাকে চা বিক্রি করতে সহায়তা করতেন এবং কৈশোরে বাস স্ট্যান্ডের কাছে ভাইয়ের সাথে চা বিক্রি করুতেন। পুরো পরিবার একটি ছোট ৪০ ফুট X ১২ ফুট মাপের একতলা বাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি এই শহরেই একজন সাধারণ মানের ছাত্র হিসেবে তার বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন।ছোট বেলায় স্বামী বিবেকানন্দের জীবন তাকে বিশেষ ভাবে অনুপ্রাণিত করে। আট বছর বয়সে মোদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের স্থানীয় শাখায় তার রাজনৈতিক গুরু লক্ষ্মণরাও ইনামদার নামক এক সাংগঠনিক কর্মীর সংস্পর্শে আসেন। ইনামদার তাকে সঙ্ঘের বালস্বয়ংসেবক হিসেবে দলে নেন।এই সময় তিনি জন সংঘের নেতা বসন্ত গজেন্দ্রগড়কর ও নথালাল জঘদার সংস্পর্শে আসেন।
ঘাঞ্চী সম্প্রদায়ের রীতি অনুসারে মোদীর পিতা মাতা কৈশোর অবস্থায় তার বিবাহ স্থির হয়। তেরো বছর বয়সে যশোদাবেন চিমনলাল নামক এক মেয়ের সঙ্গে তার বিবাহ স্থির হয় এবং আঠারো বছর বয়সে তাদের মধ্য বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। খুব কম সময় তারা একসঙ্গে সময় অতিবাহিত করেন কারণ এরপর মোদী পরিব্রাজকের জীবন অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিলে তারা বিচ্ছিন্ন হন।মোদীর জীবনীকার নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মতে এই বিবাহ কখনোই বিচ্ছেদ হিসেবে শেষ হয়ে যায়নি। চারটি নির্বাচন প্রচারে মোদী নিজের বিবাহিত জীবন নিয়ে নীরবতা অবলম্বন করলেও ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত ষোড়শ সাধারণ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তিনি যশোদাবেনকে নিজের আইনতঃ বৈধ পত্নী রূপে স্বীকার করে নেন।
২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত কিশোর মাকওয়ানা রচিত কমন ম্যান নরেন্দ্র মোদী গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে সতেরো বছর বয়সে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি রাজকোট শহরে অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশন ও তারপর বেলুড় মঠ যাত্রা করেন। এরপর তিনি আলমোড়া শহরে স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত আশ্রমে যোগ দেন। দুই বছর পরে তিনি বাড়ি ফিরে এসে আমেদাবাদ শহরে নিজের কাকার চায়ের দোকানে যোগ দেন। এই সময় তিনি পুনরায় লক্ষ্মণরাও ইনামদারের সংস্পর্শে আসেন। এরপর তিনি গুজরাট রাজ্য মার্গ বাহন ব্যবহার নিগমের ক্যান্টিনের কর্মচারী হিসেবে যোগ দেন, যত দিন না তিনি ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন পূর্ণসময়ের প্রচারক হিসেবে যোগ দেন। এই সময় তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূরশিক্ষার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক এবং গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।[

প্রাথমিক রাজনৈতিক জীবন

১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের বাংলাদেশ পাকিস্তান যুদ্ধ শেষ হলে মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘে যোগ দেন।[৩৪] নাগপুর শহরে প্রশিক্ষণের পর তাকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক ঘোষিত জরুরীকালীন অবস্থায় বিরোধীদের গ্রেপ্তার করা হলে এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে মোদী গ্রেপ্তারী এড়ানোর জন্য কখনো শিখ, কখনো বয়স্ক ব্যক্তির ছদ্মবেশে গোপণে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারপুস্তিকা বিতরণ ও বিক্ষোভ সমাবেশ সংগঠিত করতেন। তিনি জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে জরুরীকালীন অবস্থা আন্দোলনে সামিল হন। এই সময় তিনি গুজরাট লোকসংঘর্ষ সমিতি নামক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে গুজরাটে বিভিন্ন আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেন। এই সময় তিনি গুজরাটী ভাষায় সংঘর্ষ্ মা গুজরাট (গুজরাটের সংঘর্ষ) নামক একটি পুস্তক রচনা করেন যেখানে তিনি এই সময়ে ঘটিত বিভিন্ন ঘটনার নিরিখে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ মোদীকে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করায়।[৩১] এই সময় শঙ্করসিনহা বাগেলা ও কেশুভাই পটেল ভারতীয় জনতা পার্টির গুজরাট শাখার উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ হলেও নরেন্দ্র মোদী মুরলী মনোহর যোশীর কন্যাকুমারী-শ্রীনগর একতা যাত্রা সংগঠিত করে রাজ্য শাখায় উল্লেখযোগ্য সংগঠক হিসেবে উঠে আসেন। ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির গুজরাট শাখার কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এই পদে তার ভূমিকায় ভারতীয় জনতা পার্টি ১৯৯৫ সালে অনুষ্ঠিত গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভে সহায়তা করে।
১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে মোদী ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সম্পদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এই সময় তিনি হরিয়াণা ও হিমাচল প্রদেশ রাজ্যে পার্টির সাংগঠনিক কাজকর্মের দায়িত্ব সামলান। ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর শঙ্করসিনহা বাগেলা পার্টি থেকে বেরিয়ে যান। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে তিনি পার্টির কার্যনির্বাহী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের নির্বাচনী কমিটিতে তিনি বাগেলার সমর্থকদের পরিবর্তে কেশুভাই পটেলের সমর্থকদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করলে পার্টির মধ্যেকার বিচ্ছিন্নতাবাদী বিরোধিতা থেমে যেতে বাধ্য হয় এবং ভারতীয় জনতা পার্টি ঐ নির্বাচনে জয়লাভ করে।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী

২০০১ খ্রিষ্টাব্দে কেশুভাই পটেলের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে এবং তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ভূজ ভূমিকম্পে প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ ওঠে। এর ফলে পার্টির জাতীয় নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য নরেন্দ্র মোদীকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে হিসেবে তুলে ধরে। পার্টির বরিষ্ঠ নেতা লাল কৃষ্ণ আডবাণী মোদীর অনভিজ্ঞতার ওপর চিন্তিত থাকলেও মোদী পটেলের সহায়ক হিসেবে গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এর ফলশ্রুতিতে ২০০১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই অক্টোবর মোদী গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরকারীকরণ ও বিশ্বায়নবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে বেসরকারীকরণের নীতি গ্রহণ করেন।

ধন্যবাদ।


দিগন্ত কুমার রায়/Diganta Kumar Roy/দিগন্ত/DIGANTA


দিগন্ত কুমার রায়
প্রভাষক, গাজীপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ,
পিতা: দীপেন্দ্র নাথ রায় মাতা: কৃষ্ণা রানী গ্রাম: উত্তর দলগ্রাম, পোস্ট: দলগ্রাম, উপজেলা: কালীগঞ্জ, জেলা: লালমনিরহাট। শিক্ষা ও কর্মজীবন: 2014 সনে সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে সিজিপিএ 3.56 (4.00) নিয়ে মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর), 2013 সনে সিজিপিএ 3.43 (4.00) নিয়ে অনার্স (সম্মান), 2009 সনে শামছুদ্দিন-কমরউদ্দীন ডিগ্রী কলেজ থেকে 3.70 (5.00) নিয়ে উচ্চ-মাধ্যমিক ও 2007 সনে দলগ্রাম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ 4.19 (5.00) নিয়ে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক পাস করেন। বর্তমানে গাজীপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। প্রিয় খেলা: ক্রিকেট। রক্তের গ্রপ: এ পজেটিভ। “বাধন”, সরকারি আজিজুল হক কলেজ শাখার আজীবন সদস্য। শখ: ইন্টারনেট ব্রাউজিং।।

শীতে মুখের ঘা রোধ করুন

শীতে মুখের ঘা রোধ করুন 



শীতে প্রায় লোকেরই মুখে ঘা দেখা যায়। যা কথা বলা থেকে শুরু করে খাবার-দাবারে বিরূপ প্রভাব ফেলে। অনেকেই একে সিজনাল সমস্যা হিসেবে দেখেন। অনেকেই ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে থেমে যান। বড়জোর চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে এ সমস্যার সমাধান সামনে নিয়ে এসেছে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা।

মুখের ঘায়ের চিকিৎসা করতে অভিনব জীবাণু ধ্বংসকারী (বায়োডিগ্রেডেবল) প্রলেপ (প্যাচ) উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রলেপ মুখের ভেতর প্লাস্টার বা উপলেপনের মতো কাজ করে এবং মুখের ভেতর এঁটে থাকে। এভাবেই তা মুখের ঘায়ের চিকিৎসায় সাহায্য করে।
এই জীবাণু ধ্বংসকারী প্রলেপ আর্দ্র পিঠে এঁটে থাকতে পারে। এটি সরাসরি সফলভাবে মুখের ঘায়ে স্টেরয়েড অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারে। প্রলেপটি মুখের ঘায়ের ক্ষত থাকাকালীন ক্ষতের চতুর্দিকে প্রতিরক্ষামূলক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। এভাবে ক্ষত নিরাময় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।


গবেষকরা বলছেন, ‘এই প্রলেপের দীর্ঘসময় এঁটে থাকার সক্ষমতা ও উচ্চ নমনীয়তা রয়েছে। তাই এটি মুখ গহ্বরের ভেতর আর্দ্র পিঠে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে।’
বায়োমেটেরিয়ালস জার্নালে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত গবেষণা প্রবন্ধের প্রধান লেখক ইংল্যান্ডের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ক্লিনিক্যাল ডেন্টিস্ট্রির ক্রেইগ মার্ডক বলেন, ‘এই প্রলেপ মুখ গহ্বরের ভেতর প্লাস্টারের মতো কাজ করে। যার ফলে এটি সরাসরি কোন নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করে কাজ করতে পারে। ঘায়ের চতুর্দিকে প্রতিরক্ষামূলক প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।’
আইএএনএসের বরাত দিয়ে দ্য ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্টেরয়েডসমূহ মাউথওয়াশ, ক্রিম অথবা অয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে দেয়া হয়। কিন্তু এসব প্রায়ই মুখের ঘায়ের সাথে পর্যাপ্ত সময় পর্যন্ত লেগে থাকতে পারে না। তাই রোগ সারতে দেরি হয়।


এই প্রলেপ মুখ গহ্বরের ভেতর শ্লৈষ্মিক ঝিল্লিতে (মিউকোসা) উদ্ভুত প্রদাহ চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে। যেমন- ওরাল লাইকেন প্ল্যানাস (ওএলপি) এবং রিকারেন্ট (পুনঃসঙ্ঘটনশীল) এপথাস স্টোমাটাইটিস (আরএএস), যা এপথাস আলসার নামেও পরিচিত।
ক্রেইগ মার্ডক বলেন, ‘মুখের ভেতর দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যা, যেমন- ওএলপি এবং আরএএস যা ক্ষয়কারক বেদনাদায়ক ক্ষত। এসব জীবন মানের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। রোগীরা এই প্রলেপ মুখের ভেতর লাগাতে খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এর দীর্ঘসময় এঁটে থাকার কারণে যখন কার্যকর ফল লাভ করেন; তখন খুব পরিতৃপ্ত হন।’

কীভাবে সাবধানে থাকবেন-
১. মুখে আঘাতের বিষয়ে সাবধানে থাকবেন। দাঁত ব্রাশের সময় সতর্ক থাকবেন। দাঁত আঁকাবাঁকা থাকলে সেটার চিকিৎসা করান।
২. এ সমস্যা রোধের জন্য পরিমিত খাবার, ঘুম, মানসিকভাবে চাঙা থাকার চেষ্টা করবেন।
কী করবেন ঘা হলে-
যষ্টিমধু
যষ্টিমধু মুখের ঘা দূর করতে বেশ কার্যকরী একটি উপাদান। এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দুই কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এটি দিয়ে কয়েকবার কুলি করুন। উপকার পাবেন।
অ্যালোভেরা জেল
অ্যালোভেরা জেল বা অ্যালোভেরার রস মুখের ঘা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যালোভেরা জেল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক, যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফিংগাল, অ্যান্টিভাইরাল উপাদান ক্ষত কমিয়ে দিতে পারে।
নারকেল দুধ
এক টেবিল চামচ নারকেল দুধের সঙ্গে মধু মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণ দিনে তিন থেকে চারবার ঘায়ের জায়গায় লাগান। মধু ছাড়া শুধু নারকেলের দুধ দিয়েও ক্ষত স্থানে মালিশ করতে পারেন। এবং ক্ষত দ্রুত সেরে যাবে।
তুলসি
কয়েকটি তুলসি পাতাসহ পানি দিনে তিন থেকে চারবার পান করুন। এটি দ্রুত মুখের ঘা প্রতিরোধ করে দেবে এবং মুখের ঘা হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেবে।
টি ব্যাগ
দ্রুত ব্যথা এবং জ্বালা দূর করতে টি ব্যাগ খুবই কার্যকর। একটি টি ব্যাগ ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে সেটি ঘায়ের জায়গায় লাগান। ব্যথা এবং ক্ষত দ্রুত সেরে যাবে।
বরফ বা ঠাণ্ডা পানি
মুখের ঘায়ের ব্যথা বেশি হলে এক টুকরা বরফ নিয়ে ঘায়ের স্থানে রাখুন। অথবা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন। লবণ-পানি দিয়ে কুলকুচি করতে পারেন, এটি মুখের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে।
লবঙ্গের রস
এক টুকরা লবঙ্গ মুখে দিয়ে রাখুন বা লবঙ্গের রস দিয়ে ক্ষত স্থানটিতে লাগাতে পারেন। উপকার পাবেন।


ধন্যবাদ।

দিগন্ত কুমার রায়

(প্রভাষক)
গাজীপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ।
গাজীপুর সদর, গাজীপুর।

Tuesday, October 22, 2019

ডায়াবেটিস / Diabetic পরীক্ষা / Checkup

ডায়াবেটিস পরীক্ষা / Diabetic Checkup 


সুগারের মাত্রা কত হলে বুঝবেন ডায়াবেটিস আছে ?

ডায়াবেটিস রোগটি এখন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৪০ পেরুলেই যে কারো এই রোগে পেয়ে বসতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
রক্তে চিনির মাত্রা পরিমাপ করে ডায়াবেটিস শনাক্ত করা যায়। ল্যাবরেটরিতে রক্ত পরীক্ষা করে ও ঘরে বসে গ্লুকোমিটার ব্যবহার করে নির্ণয় করা যায়।
আপনি যদি রাতে স্বাভাবিক খাবার খেয়ে সকালে খালি পেটে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে রক্তে চিনির মাত্রা ৫.৮ মিলিমোলের চেয়ে কম পান তাহলে ধরে নিতে হবে আপনার একটুও ডায়াবেটিস নেই। কিন্তু যদি চিনির মাত্রা ৫.৮ এর বেশি অথচ ৭.৮ মিলিমোলের কম হয় তাহলে আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার বেশ ঝুঁকি আছে। এটাকে বর্ডার লাইন বা মার্জিন পয়েন্ট বলে। তাই এটাকে বর্ডার লাইন ডায়াবেটিস বলে ধরা হয়। এছাড়া রক্তে যদি চিনির মাত্রা ৭.৮ মিলিমোলের বেশি হয়, তবে ডায়াবেটিসে
আক্রান্ত বলে মনে করা যায়। তবে শুধু খালিপেটে পরীক্ষাটিই ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। খালিপেটে নির্ণয়ের পর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পানিতে গুলে খেয়ে দুই ঘণ্টা পর রক্তে আবার চিনির মাত্রা পরীক্ষা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে যদি চিনির মাত্রা ৭.৮ মিলিমোল বা তার থেকে কম হয়, তবে ডায়াবেটিস নেই। যদি ৭.৮ এর বেশি, কিন্তু ১১ মিলিমোল বা তার চেয়ে কম হয়, তবে বর্ডার লাইন ডায়াবেটিস বলে ধরে নেয়া যায়। আর যদি চিনির মাত্রা ১১ মিলিমোলের বেশি হয়, তবে ডায়াবেটিস আক্রান্ত বলে ধরে নিতে হয়। এক্ষেত্র ডাক্তার কে সরাসরিভাবে বলা ভালো হয় ,।
খালি পেটে বা খাবারের আগে রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (Fasting Blood Glucose) : এ পরীক্ষাটি সকালে নাস্তার আগে খালি পেটে করতে হয়। এ পরীক্ষাটির স্বাভাবিক মাত্রা ৬.১ মিলি মোল/লিটার বা তার কম হলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন। * খাবারের ২ ঘণ্টা পর রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (2 Hour After Breakfast) : এ পরীক্ষাটি নাস্তা খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর করতে হয়। এর স্বাভাবিক মাত্রা ১০ মিলি মোল/লিটার বা তার কম হলে আপনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নন। * যে কোনো সময় রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা (Random) : এ পরীক্ষাটি দিনের যে কোনো সময় করা যেতে পারে। ওই পরীক্ষাটির স্বাভাবিক মাত্রা ৫.৫ থেকে ১১.১ মিলি মোল/লিটার পর্যন্ত ধরা হয়। * ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (OGTT) : যাদের খালি পেটে FBG
৬.১ এর বেশি কিন্তু ৭.০ মিলি মোল/লিটারের কম কিংবা দিনের যে কোনো সময় ৫.৫ এর বেশি কিন্তু ১১.১ মিলি মোল/লিটারের কম, তাদের এ পরীক্ষাটি করা খুবই জরুরি। কারণ এ পরীক্ষাটির মাধ্যমে কারও ডায়াবেটিস আছে কি নেই সে ব্যাপারে নিশ্চত হওয়া যাবে। এ পরীক্ষাটির জন্য রোগীকে প্রথমে খালি পেটে রক্ত দিতে হবে। এরপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে এবং ঠিক দুই ঘণ্টা পর রোগীকে আবার রক্ত দিতে হবে। এই দুই ঘণ্টা রোগী অন্য কোনো খাবার খেতে পারবেন না এবং কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রমের কাজও করতে পারবেন না। ধূমপান করা যাবে না। এ পরীক্ষায় যে রোগীর খালি পেটে ৭.০ মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি এবং দুই ঘণ্টা পর ১১.১ মিলি মোল/লিটারের চেয়ে বেশি হলে তাকে নিশ্চিত ডায়াবেটিসের রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। নিয়ম হলো একজন সুস্থ-সবল মানুষ প্রতি বছর একবার করে তার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রাটি জেনে নেবেন। এতে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিনা তা জানতে পারবেন। অনেকে রয়েছেন, তারা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন; কিন্তু জানেনই না তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর এ রকমটি হলে এটি যে কোনো সময় আপনার জীবনের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই আজই যে কোনো ডায়াবেটিস সেন্টারে গিয়ে আপনার রক্তের গ্লুকোজের সঠিক মাত্রাটি জেনে নিন ও সুস্থ দেহে নিরাপদ
নিজেই যদি ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে চান তবে জেনে নিন কয়েকটি পন্থা।

হাসপাতাল কিংবা ডায়াগোনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানো বেশ ঝক্কির কাজ হতে পারে। বিশেষ করে কোন পরীক্ষাটি খালি পেটে করতে হবে, পরীক্ষার আগে কতক্ষণ না খেয়ে থাকতে হবে, আবার দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া ইত্যাদির প্রস্তুতি নেওয়া বিশেষ জরুরি।
এগুলো ছাড়াও পরীক্ষার সঠিক ফলাফল পেতে কিছু বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হবে।
এ বিষয়ে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিভাগের পরামর্শদাতা ডা. কামরুল হাসান (বিসিএস স্বাস্থ্য)।

এ ওয়ান সি পরীক্ষা (গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন): 

এই পরীক্ষার জন্য খালি পেটে থাকার প্রয়োজন হয় না এবং বিগত তিন মাসে রক্তে শর্করার গড় মাত্রা জানা যায় এই পরীক্ষা থেকে। রক্তের ‘হিমোগ্লোবিন’য়ে কত শতাংশ শর্করা জুড়ে আছে এবং লোহিত রক্তকণিকায় অক্সিজেনবাহী প্রোটিন কী মাত্রায় আছে তা নির্ণয় করে পরীক্ষাটি।
রক্তে শর্করা যত বেশি হবে, ‘হিমোগ্লোবিন’য়ের সঙ্গে ততই বেশি মাত্রায় শর্করা জুড়ে থাকবে। সাধারণত, ‘এওয়ানসি’র মাত্রা যদি পরপর দুই পরীক্ষায় ৬.৫ বা তারও বেশি থাকে তাহলে বুঝতে হবে আপনার ডায়াবেটিস হয়েছে। ‘এওয়ানসি’য়ের মাত্রা ৫.৭ থেকে ৬.৬ এর মধ্যে থাকে তবে আপনি ‘প্রিডায়াবেটিক’ আর ৫.৭ এর নিচে হলে তা স্বাভাবিক।
তবে আপনি যদি গর্ভবতী হন কিংবা আপনার ‘হিমোগ্লোবিন’য়ের ধরন যদি ভিন্ন হয়, যাকে বলা হয় ‘হিমোগ্লোবিন ভ্যারিয়েন্ট’, তাহলে এই পরীক্ষার ফল ভুল আসতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসক আপনাকে আরও কিছু পরীক্ষা করাতে বলবেন।

ফাস্টিং প্লাজমা গ্লুকোজ (এফপিজি) পরীক্ষা: 

এই পরীক্ষা খালি পেটে করতে হয়, যার কারণে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান যে কীভাবে এটি করতে হবে। সঠিক উপায় হল সারারাত বা আট থেকে ১২ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর এই পরীক্ষা করাতে হবে। ১০০ এমজি/ডিএল হল স্বাভাবিক ফলাফল। ১০০ থেকে ১২৫ এমজি/ডিএল হল ‘প্রিডায়াবেটিক’ এবং ১২৬ এমজি/ডিএল মানে হল আপনার ডায়াবেটিস হয়ে গেছে।

পোস্টপ্রান্ডিয়াল গ্লুকোজ: 

সকালের নাস্তা খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে এই পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। তবে সকালের নাস্তায় মানুষ বিভিন্ন ধরনের খাবার খায়, অনেকে আবার পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক আসবে এমন খাবার বেছে নিয়ে খান। তাই সামঞ্জস্য রক্ষার জন্য সকালের নাস্তায় ৭৫ গ্রাম শর্করা খাওয়া পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। শরীর শর্করাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে সেটা দেখাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য।
ফলাফল ১৪০ এমজি/ডিএল এর বেশি হলে তা অস্বাভাবিক। নিজের ইচ্ছে মতো সকালের নাস্তা খেলে এমন খাবার খান যা আপনি প্রায় প্রতিদিনই খান, কোনো পরিবর্তন আনবেন না।

ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স: 

এই পরীক্ষা করা হয় দুই ধাপে। প্রথম ধাপে সারারাত না খেয়ে থাকার পর সকালে প্রথম রক্তের নমুনা নেওয়া হবে ‘ফাস্টিং ব্লাড সুগার’ পরিমাপের জন্য। এরপর চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়ানো হবে এবং দুই ঘণ্টা পর আবার রক্তের নমুনা নিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা পরিমাপ করা হবে। পরীক্ষায় ‘টাইপ ওয়ান’ ডায়াবেটিস ধরা পড়লে মূত্র পরীক্ষা করাতে বলতে পারেন চিকিৎসক।
শর্করা ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদনের জন্য শরীরে পর্যাপ্ত ‘ইনসুলিন’ না থাকার কারণে শরীর পেশি ও চর্বি ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করে, আর এই প্রক্রিয়ার কারণে মূত্রের সঙ্গে কোনো উপজাত দ্রব্য আসছে কিনা সেটা জানার জন্যই মূত্র পরীক্ষা করা হয়।

ঘরে পরীক্ষা

এজন্য প্রয়োজন হবে ‘গ্লুকোমিটার’ নামক একটি যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে সঠিক ফলাফল পেতে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে হবে।
- হাত ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
- যন্ত্রে ‘টেস্ট স্ট্রিপ’ প্রবেশ করাতে হবে।
- আঙ্গুলের ডগায় ‘টেস্ট কিট’য়ের সুঁই দিয়ে ফুটো করতে হবে।
- এবার আঙ্গুলে সামান্য চাপ দিয়ে এক ফোঁটা রক্ত ‘টেস্ট স্ট্রিপ’য়ের উপর ফেলতে হবে।
- আঙ্গুলে থাকা রক্তে ‘টেস্ট স্ট্রিপ’টি স্পর্শ করালেও কাজ হবে। কয়েক সেকেন্ড পরেই যন্ত্রটি ফলাফল দেখাবে।