সময় এবং তারিখ

ঢাকা,বাংলাদেশ 

Wednesday, July 8, 2026

প্রমোশনের বুফে !

প্রমোশনের বুফে !


২০২৩ সালের একটি প্রমোশন পরবর্তী ঘটনা ।

অফিসে ঢুকেই শুনলাম চারদিকে একটাই আলোচনা—“আজকে কিন্তু বড় খবর!”

আমি, দিগন্ত কুমার রায়, যথারীতি চুপচাপ নিজের ডেস্কে বসে কাজ করছি । আমার নীতি একটাই—কম কথা, বেশি কাজ । অফিসের নিয়ম মেনে চলি, আর দায়িত্ব পেলে সেটাকে নিজের কাজ মনে করেই করি ।

হঠাৎ আমার ডেস্কের সামনে এসে দাঁড়ালেন ফাহাদ ভাই।

“দিগন্ত, খবর জানেন?”

আমি মাথা নাড়লাম । না ভাই !

তিনি বললেন—

“দেখেন, প্রতিষ্ঠানে যখন যোগ্য লোকের প্রমোশন হয়, তখন সেটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, প্রতিষ্ঠানেরও অর্জন । আর এই অর্জনের সামাজিক উদযাপন হওয়া উচিত । তাই আজকে কোনো অজুহাত চলবে না । খাওয়া দিতে হবে ।”

ফাহাদ ভাই একবার কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলে তাঁকে আর বদলানো কঠিন । কারণ তিনি সচরাচর ভেবেচিন্তে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়ে থাকেন, প্রামাণিত । তাঁর কথায় এমন যুক্তি থাকে যে শেষ পর্যন্ত সবাই রাজি হয়ে যায় । অধীনস্তদের জন্য তিনি যেন সত্যিই এক বিশাল বটগাছের ছায়া ।

ঠিক তখনই অফিসে ঢুকলেন নতুন প্রমোশন পাওয়া চার নায়ক—ফয়েজ ভাই, রুদ্র ভাই, ইমতিয়াজ ভাই এবং শিহাব ভাই ।

রুদ্র ভাই এসেই সবার সঙ্গে এমনভাবে কুশল বিনিময় শুরু করলেন যেন অফিস নয়, বহুদিন পর আত্মীয়দের ঈদের মিলনমেলা ।

ইমতিয়াজ ভাই আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বললেন,

“আজকে কেউ বিল নিয়ে চিন্তা করবেন না । আজ আনন্দের দিন ।”

আমি মনে মনে ভাবলাম, “বিলের কথা তো কেউ এখনো বলেনি। কিসের বিল?”

এরই মধ্যে শিহাব ভাই ঘোষণা দিলেন—

“আজ সন্ধ্যায় সবাই গ্রীন লাউঞ্জ, বেইলী রোড । বুফে পার্টি।”

সারা অফিসে যেন আনন্দের ঢেউ ।

এমন সময় এইচ.আর.এম এন্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল স্যার কক্ষে প্রবেশ করলেন ।

তিনি হাসিমুখে বললেন,

“তোমাদের আনন্দ দেখে খুব ভালো লাগছে । তবে একটা কথা মনে রেখো—খাবারের চেয়ে পারস্পরিক সম্পর্কের মূল্য অনেক বেশি ।”

স্যারের কথায় এমন আন্তরিকতা ছিল- সবাই হাততালি দিয়ে উঠল ।

দুপুরের দিকে আমি নতুন যোগদানকৃত স্টাফদের ফাইল দেখছি ।

ঠিক তখনই সহকারী পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান সুমন স্যার প্রবেশ করলেন।

তিনি রুমে প্রবেশ করেই বললেন,

“কিরে দিগন্ত! এত সিরিয়াস মুখ কেন? মনে হচ্ছে বুফের আগে ডায়েট শুরু করে দিয়েছিস নাকি?”

তারপর নিজের স্বভাবসুলভ দুষ্টুমি মেশানো ভাষায় সবাইকে হাসাতে লাগলেন । তাঁর সেই মজার কথাগুলো এতটাই প্রাণবন্ত ছিল যে পুরো বিভাগে হাসির রোল পড়ে গেল ।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ।

সবাই পৌঁছে গেলাম গ্রীন লাউঞ্জে ।

ফয়েজ ভাই যেন পুরো অনুষ্ঠানের ইভেন্ট ম্যানেজার ।

কে কোথায় বসবে, কে আগে খাবার নেবে, কে ছবি তুলবে—সব তাঁর নখদর্পণে।

আমি চুপচাপ এক কোণে বসে ছিলাম ।

ফয়েজ ভাই এসে বললেন,

“দাদা, আজকে আপনার দায়িত্ব—খাবারের আগে সবাই আছে কি না সেটা নিশ্চিত করবেন ।”

আমি দায়িত্ব নিয়ে উপস্থিতি মিলিয়ে ফেললাম ।

ফাহাদ ভাই সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

“দেখছেন? এই জন্যই দায়িত্ববান লোকের আলাদা মূল্য আছে ।”

ঠিক তখনই শিহাব ভাই শুরু করলেন তাঁর হাস্যরসাত্মক কথা-

তিনি বললেন,

—“বুফেতে একটা নিয়ম করা উচিত—যে সবচেয়ে বেশি ডেজার্ট খাবে, সে পরের প্রমোশনের আগে ডায়েট চার্ট জমা দেবে!”

পুরো অফিস হেসে উঠল ।

তারপর তিনি আরও যোগ করলেন,

“বুফেতে তিন ধরনের মানুষ থাকে ।

এক নম্বর—যারা খাবার দেখে ।

দুই নম্বর—যারা ছবি তোলে ।

তিন নম্বর—যারা প্রথম দুইজনের অপেক্ষায় থেকে শেষে প্লেট ভর্তি করে!”

রুদ্র ভাই বললেন,

“আমি তো তিন নম্বর দলের আজীবন সদস্য!”

সবাই হো হো করে হেসে উঠল ।

 

ইমতিয়াজ ভাই বললেন,

“আজকে প্লেট ছোট হলে রিফিল হবে, কিন্তু আনন্দ ছোট হলে রিফিল হবে না ।”

এমন সময় জলিল স্যার ধীরে ধীরে বললেন,

“তোমরা এত হাসছো, হিসাবের খাতা কিন্তু হাসে না।”

সবাই কয়েক সেকেন্ড চুপ ।

তারপর তিনি নিজেই মুচকি হেসে বললেন,

“ভাগ্য ভালো, আজ বিল তোমাদের না!”

আবার হাসির বিস্ফোরণ ।

খাওয়া শুরু হলো ।

কেউ কাবাব নিচ্ছে, কেউ বিরিয়ানি, কেউ স্যুপ, কেউ ডেজার্ট, যার যা ইচ্চ্ছা খাচ্ছে ।

আমি অল্প অল্প করে সবকিছু নিচ্ছিলাম ।

সুমন স্যার টেবিলের ওপার থেকে চিৎকার করে বললেন,

“এই দিগন্ত! এত কম খাবি? অফিসে তোকে দেখে মনে হয় সারা মাস নিরামিশ খাস, আজ একটু তেলের তৈরি খাবার খা! খেলে মরবি না;  না হয় দুইদিন কম বাঁচলি!”

শিহাব ভাই সঙ্গে সঙ্গে যোগ করলেন,

“ওনাকে বেশি খেতে দিয়েন না । কাল অফিসে এসে যদি বলে ‘বুফে নীতিমালা’ বানাতে হবে, তাহলে কিন্তু শেষ!”

হাসতে হাসতে আমারও চোখে পানি এসে গেল ।

খাওয়ার শেষে ছবি তোলার পালা ।

রুদ্র ভাই সবাইকে এমনভাবে দাঁড় করালেন যেন জাতীয় পুরস্কার গ্রহণের ছবি তোলা হচ্ছে ।

ফয়েজ ভাই বললেন,

“এখন সবাইকে একটু ভদ্রভাবে হাসতে হবে!”

ঠিক তখনই শিহাব ভাই বললেন,

“যারা দ্বিতীয়বার আইসক্রিম খেয়েছেন, তারা একটু বেশি হাসুন!”

আবারও অট্টহাসি।

শেষে মুকুল স্যার সবাইকে দেখে বললেন,

“আজকের সবচেয়ে বড় অর্জন যারা প্রমোশন পেয়েছে, তাদের দেওয়া এই সুন্দর আনন্দঘন মুহূর্ত”

আমি নীরবে চারপাশে তাকালাম ।

ভাবলাম—

পদবি মানুষকে বড় করে না ।

একসঙ্গে হাসতে পারা, একে অপরকে সম্মান করা, প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো—এসবই একটি অফিসকে পরিবারে পরিণত করে ।

সেদিন গ্রীন লাউঞ্জের বুফে শেষ হয়েছিল ।

কিন্তু সেই সন্ধ্যার হাসি, কৌতুক, সুন্দর মুহূর্তের স্মৃতির স্বাদ আজও যেন মনের প্লেটে গরম গরম পরিবেশন হয় ।

 

সৌজন্যে-

দিগন্ত কুমার রায়
জুনিয়র এইচ.আর. অফিসার
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন, কর্পোরেট অফিস

২ বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭ ।

মোবাইল: 01717-113087

ইমেইল: digantaroy295@gmail.com

Tuesday, July 7, 2026

কর্পোরেট অফিসে একদিন

কর্পোরেট অফিসে একদিন

 

সেদিন সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হয়েছিল । আমি সফটঅয়্যারে কর্মীদের তথ্য আপডেট করে চিঠি-পত্র রেডি করছি স্বাক্ষরের জন্য । ঠিক তখনই ফাহাদ ভাই দ্রুত হেঁটে এসে বললেন,

— “দিগন্ত, আজ সকল চিঠি-পত্র স্বাক্ষর করাতে হবে, তারাতারি রেডি করেন । কিন্তু, একটা মজার ঘটনা ঘটেছে!”

আমি মাথা তুলে শুধু বললাম, — “কি ভাই?”

ফাহাদ ভাই বললেন, — “কেউ একজন পুরো অফিসে ‘Reply All’ দিয়ে লিখেছে— ‘যে ফ্রিজ থেকে আমার দই খেয়েছেন, তিনি দয়া করে অন্তত চামচটা ধুয়ে রাখবেন!’”

পুরো অফিসে তখন হাসির রোল।

ফাহাদ ভাই অবশ্য হাসির মধ্যে বললেন -

— “দইয়ের মূল্য দশ টাকা না একশ টাকা সেটা বিষয় না । বিষয় হলো ন্যায়বিচার । যার দই, তার দই । আর যার চামচ, তার চামচ!”

তার যুক্তির সামনে কেউ আর তর্ক করল না ।

এদিকে জাহেদ ভাই চুপচাপ বসে পুরো ই-মেইল থ্রেড বিশ্লেষণ করছেন । তিনি সবসময় পরিস্থিতি বুঝে কথা বলেন । কয়েক মিনিট পর শান্তভাবে বললেন,

— “ভাই, Reply All করেছে ভুলে । আসল উদ্দেশ্য ছিল একজনকে পাঠানো ।”

সবাই একসাথে বলল, — “আহা!”

ঠিক তখনই লিগ্যাল অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্সের শিহাব ভাই ঢুকলেন ।

তিনি পরিস্থিতি বুঝে বললেন,

— “আইন অনুযায়ী দইয়ের মালিকানা প্রমাণ করতে হলে প্রথমে ফ্রিজে থাকা দইয়ের সাক্ষী লাগবে!”

হাসির শব্দ থামার আগেই তিনি আবার বললেন,

— “যদি দই নিজে সাক্ষ্য দিতে পারত, তাহলে কোর্টে প্রথম প্রশ্ন হতো— ‘আপনি কি নিজ ইচ্ছায় খাওয়া হয়েছেন?’”

এবার এমন হাসি শুরু হলো যে পাশের বিভাগের লোকজনও উঁকি দিতে লাগল ।

আমি (দিগন্ত) হাসলেও রিপোর্ট ঠিকঠাক সাজিয়ে যাচ্ছিলাম।

দুপুরে পরিচালক (মো. তারিকুল ইসলাম মুকুল) স্যারের কক্ষে সবাই উপস্থিত হলাম।

স্যার সবার কথা মন দিয়ে শুনলেন । তাঁর স্বভাবই এমন—নরম, ধৈর্যশীল ।

সব শুনে তিনি মৃদু হেসে বললেন,

— “একটা দইয়ের কারণে যদি সবাই একসাথে হাসতে পারে, তাহলে এটাও কর্পোরেট কালচারের অংশ । তবে পরেরবার নাম না লিখে ‘Reply All’ নয়।”

 সবাই মাথা নেড়ে সম্মতি দিল ।

ঠিক তখনই ইমতিয়াজ ভাই দরজা খুলে ঢুকলেন ।

গাম্ভীর্যপূর্ণ কণ্ঠে বললেন,

— “সব লাইসেন্সের কাজ শেষ । আর দই যদি অফিসের সম্পদ হয়ে থাকে, তাহলে তারও একটা রেজিস্টার রাখা উচিত!”

কথাটা এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে বললেন যে কয়েক সেকেন্ড কেউ বুঝতেই পারল না তিনি মজা করছেন নাকি সত্যি ।

এরপর তিনিই বললেন,

— “চলো, আজ সবাইকে কফি খাওয়াই”

সঙ্গে সঙ্গে সবাই হাততালি দিল ।

ঠিক তখন সিদ্দিকুর রহমান সুমন স্যার অফিসে এসেই বললেন,

— “আরে এই যে! তোমরা দই নিয়ে মিটিং করছ? এইসব দুষ্টু লোকজনের জন্যই অফিসে ফ্রিজে তালা লাগাতে হয়!”

তারপর নিজের স্বভাবসুলভ হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে কয়েকটি হালকা মজার আঞ্চলিক গালি ব্যবহার করলেন, যেগুলো শুনে কেউ অপমানিত হলো না; বরং পুরো রুম আবার হাসিতে ভরে গেল ।

তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে আবার বললেন,

— “শুধু কফি ক্যা? আমার অফিসে চল । বিরিয়ানি, কাবাব, ডিম, মৌসুমী ফল, চা, কী খাবি—সব ব্যবস্থা আছে। খালি পেটে অফিসের নীতি শেখা যায় নাকি!”

আর ঠিক তখনই অফিস সহকারী কালাম ভাই ট্রে ভর্তি চা/কফি ও বিস্কুট নিয়ে রুমে ঢুকলেন। তিনি পরিচালক থেকে শুরু করে জুনিয়র স্টাফ—সবার সামনে সমান আন্তরিকতায় চা-কফি পরিবেশন করলেন।

হাসিমুখে বললেন,

— "স্যার, আগে এক কাপ চা হয়ে যাক। খালি পেটে মিটিং করলে সিদ্ধান্তও শুকনো হয়ে যায়!"

শিহাব ভাই সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন,

— "কালাম ভাই, আপনার চা না থাকলে আমাদের মিটিংয়ের মিনিটসও ঘুমিয়ে পড়ত!"

হাসির রোল পড়ে গেল পুরো রুমে।

ফাহাদ ভাই মুচকি হেসে বললেন,

— "দেখো দিগন্ত, কর্পোরেট অফিসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ মানুষ হলো কালাম । তিনি পদবি দেখেন না; সবার জন্য একই হাসি, একই চা, একই বিস্কিট ।"

আমি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম । সত্যিই, কালাম ভাই প্রতিদিন নীরবে নিজের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন । চা-কফি পরিবেশন থেকে শুরু করে অফিসের অন্যান্য কাজ—সব কিছুই করেন হাসিমুখে ।

 

এমন সময় সেলিম ভাই দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বিনয়ের সঙ্গে বললেন,

— "স্যার, ওয়াসরুমগুলো পরিষ্কার করে দিলাম । আর পাশের কনফারেন্স রুমেও চা দিয়ে আসলাম।"

শিহাব ভাই এবার বললেন-।

— "সেলিম ভাই, আপনার কারণে আমাদের অফিসের ওয়াসরুমে ঢুকলেও মনে হয় ফাইভ স্টার হোটেলে এসেছি!"

সবাই হেসে উঠল ।

সেলিম ভাই লাজুক হেসে বললেন,

— "স্যার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে সবাই ভালোভাবে কাজ করতে পারে । এটাই আমার আনন্দ।"

ইমতিয়াজ ভাই গম্ভীর মুখে বললেন,

— "একটা প্রতিষ্ঠানের মান শুধু কনফারেন্স রুম দেখে বোঝা যায় না; ওয়াসরুম দেখেও বোঝা যায় । সেলিম ভাই তার দায়িত্ব খুব ভালোভাবে পালন করছে।"

এদিকে রুদ্র ভাই ইতিমধ্যে সকল টিভি চ্যানেল, প্রিন্ট মিডিয়া, ফেসবুক ও ইউটিউবার—সবার সঙ্গে কথা বলেছেন ।

তিনি বললেন,

— “আমি খবর নিয়ে এসেছি। দইয়ের ঘটনা এখন পুরো অফিসের আলোচনার বিষয় ।

সবাই হাততালি দিল ।

ঠিক তখনি আমি (দিগন্ত) বললাম,

— “ভাই… আসলে একটা কথা বলি?”

সবাই তাকাল ।

বললাম..... যে,

— “Reply All-টা আমি পাঠাইনি । কিন্তু যিনি পাঠিয়েছেন, তিনি পরে আমাকে বলেছিলেন— ‘Undo Send’ কোথায় পাই?”

পুরো রুম আবার হাসিতে ফেটে পড়ল ।

আমি শান্তভাবে বললাম,

— “পরেরবার পাঁচ সেকেন্ডের বদলে ত্রিশ সেকেন্ড Undo Send চালু করে দেব ।”

-আবার সবার মধ্যেই হাসি ।..........

দিনের শেষে মুকুল স্যার বললেন,

— “একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য হলো-পারস্পরিক সম্মান, সহযোগিতা, বিশ্বাস, কাজ করার দক্ষতা আর আনন্দঘন পরিবেশ—এই বিষয়গুলো সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।” সবার সম্মিলিত দায়িত্ববোধই আমাদের অফিসকে একটি পরিবার করে তুলেছে।"

আমি (দিগন্ত) চারদিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবলাম;

—অফিসে পদবি আলাদা হতে পারে । কিন্তু সকলেই স্ব স্ব কর্মস্থলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে, নীতিমালা করে, বিশেষ দক্ষতায়, কেউ প্রযুক্তি জ্ঞানে, কেউ সম্পর্ক দিয়ে, আবার কেউ এক কাপ চা/কফি কিংবা ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিয়ে কর্মদিবসকে সুন্দর করে তোলেন । সব মিলিয়েই আমাদের অফিস, আমাদের পরিবার ।


সৌজন্যে-

দিগন্ত কুমার রায়
জুনিয়র এইচ.আর. অফিসার
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশন, কর্পোরেট অফিস

২ বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭ ।

মোবাইল: 01717-113087

ইমেইল: digantaroy295@gmail.com


Tuesday, February 9, 2021

“শ্যালিকাকথন এবং একটি টেনশন”

  

প্রতীক্ষার প্রেম, অত:পর বিয়ে (পর্ব-04)

দিগন্ত কুমার রায়

“শ্যালিকাকথন এবং একটি টেনশন”


বিয়ে করবো আর শ্যালিকা থাকবে না, তা কি করে হয়? হোক সে নিজের, কাকাতো, খুড়তুতো, মাসিতো, পিসিতো কিংবা পাড়াতো শ্যালিকা। জামাইবাবু-শ্যালিকা শব্দ দুটির অর্থ চিন্তা করলে আমরা এর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারি। মানে, বিবাহিত ছেলে মেয়ের মধ্যে যেন অন্যরকম আমেজ সংযুক্ত করে।

উচ্চতর একাডেমিক শিক্ষা অর্জনে অধ্যয়নরত সুন্দরী আর স্মার্টলি কথা বলা শ্যালিকা আমার। বউয়ের সাথে প্রথম কথা বলার সুযোগটি আমার সেই শ্যালিকা স্মৃতি দেবীর মাধ্যমে হয়েছিল। ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথা হয় তার সাথে। তখন থেকেই নিয়মিত যোগাযোগ।

এভাবে কথা হয়…. দিন চলে যাচ্ছে।

একদিন সে মেসেঞ্জারে এসএমএস করলো। ক্যামন আছি জানতে চাইলো।

দুর্ভাগ্যবসত ব্যস্ততা, আর বে-খেয়ালীর কারণে এসএমএস টি কয়েকদিন পর আমার নজরে আসলো আর সঙ্গে সঙ্গে উত্তর’ও দিয়ে দিলাম।  

কিন্তু উত্তর দিতে দেরি হওয়ায় কারণে যা হবার হয়ে গেছে।

 অজান্তেই আমি আমার শ্যালীকা’র (স্মৃতি দেবী) মন চূর্ন-বিচূর্ন করে দিয়েছি।

সে আমাকে “গুড বাই” বলে শেষ বিদায় জানিয়ে দিয়েছে।

আমি ভাবলাম- সামান্য কারণে গুড বাই জানানোর কি আছে।

আমাকে ভুল বোঝার কারণগুলি জানিয়ে দিলাম আর যোগাযোগও কমিয়ে দিলাম।

বিষয়টি আমাকে ভালো লাগছে না। খুবই খারাপ অনুভূতি হচ্ছে।

দিন যায়…….।….কিছু দিন পর…..।

……. বউয়ের সাথে বিষয়টি শেয়ার করলাম।

 বউ (গৌরি) বললো- সে ছোট মানুষ, ভুল তো করতেই পারে। তুমি তার সাথে যোগাযোগ কেন করছো না? আমি আর এক মিনিট দেরি না করে, বউয়ের সাথে ফোনে লাইনে থাকা অবস্থাতেই স্মৃতিকে ফোন দিলাম। ওপাশ থেকে ফোন রিসিভ হলো।

স্মৃতি বললো- জিজু, কেমন আছেন? (আনন্দ আর আগ্রহের সাথে)

আমি বললাম- “ভালো। তুমি কেমন আছো?”

এভাবেই আবার কথা শুরু হলো দু’জনে।

[এখানে বলে রাখা ভালো যে- স্মৃতি আমাকে জিজু বলেই ডাকে।]

 কথার শেষে নিজেকে খুবই দোষী মনে হলো। একজন সুন্দর মনের শ্যালীকা’কে এতোদিন আমি ভুল বুঝেছিলাম।

   একদিন আমি কথার সূত্রে আমার এক বন্ধুর সাথে তার পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলাম। ভাবলাম আমার বন্ধুটি যেহেতু প্রতিষ্ঠিত আর সুন্দর মনের। তাই শ্যালিকার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া যেতেই পারে।

কিন্তু শ্যালিকা কোনো অপরিচিত ছেলের সাথে পরিচিত হতে রাজি নয়।

“কেন পরিচিত হবা না” –জিজ্ঞেস করলাম?

“এমনিতে”- সে উত্তর দিলো।

আমি কিছুটা আশ্চয্ হলাম যে, একজন ব্যাচেলর মেয়ে আর একজন ব্যাচেলর ছেলের সাথে কেনইবা পরিচিত হতে চাইছে না? এ বিষয়ে আমি আর কৌতুহল দেখালাম না।

এরপর মাঝে মধ্যে কথা বলা আর খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে দুজনার।

কিছুদিন পর বিষয়টি সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা পেলাম বউ’য়ের (গৌরি) সাথে কথা বলে।

স্মৃতি প্রেম করছে। বিয়ে’ও ঠিক হয়েছে সেই প্রেমিকের সাথে। আর বিয়েটাও হয়ে যাবে খুব শীঘ্রই।

 শুনে ভালোই লাগলো।

কেননা, যে বিষয়ে আমি সুযোগ করে উঠতে পরিনি, তা বর্তমানের ছেলে-মেয়েরা পাচ্ছে। …….।

বউয়ের কাছে সেই প্রেমিকের পিকচার দেখলাম। ছেলে দেখতে নায়কের মতোই সুন্দর। দু’জনকে ভালোই মানাবে মনে হচ্ছে।

তবে, এই বিষয়টি সে আমার কাছে নাও লুকাতে পারতো। যেখানে শ্যালিকা আর জামাইবাবুর ব্যাপারই তো!

 যাই হোক, এখানে অসুবিধার কিছু নাই।

কিছুদিন হলো সম্ভবত 08 ফেব্রুয়ারি 2021 ইং তারিখ রাত সাড়ে দশ’টার দিকে আমার ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটি ভিডিও আসলো।

 আমি ভিডিওটি কয়েকবার দেখে বোঝায় চেষ্টা করলাম।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- *[এই ভিডিও সম্পর্কে আমার কিছু বলার নাই]*

আসলে, ভিডিওটি স্মৃতির ফেসবুক আইডি থেকে পাঠানে হয়েছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই বউ’য়ের ফোন এলো। কথা হলো এবং ভিডিওটি শেয়ার করলাম।

[ভিডিওটি সম্পর্কে বউ’ও কোনো মন্তব্য করলো না]

………..।

…. বাড়ি থেকে অনবরত ফোন আসছে। কিছুদিন থেকেই ‘বউ’ বাড়ি যেতে চাচ্ছে। সে জানালো-আগামীকাল অর্থাৎ 09 ফেব্রুয়ারি 2021 তারিখ সে বাসায় যাবে।

আমি আমার ভাই (পল্লব)’কে রংপুরে পাঠাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে সে আসতে পারলো না।

 ব্যাগ গুছিয়ে রেডি হলো  বউ সাথে আমার দুশ্চিন্তাও। বাড়ি যেতে সন্ধ্যা হতে পারে। সেজন্য মেস থেকে তাড়াতাড়ি রওনা দিতে চাইলো। কিন্তু দুপুরে না খেয়ে বেরোতে হবে তার। কারন খালার রান্না হতে দেরি হচ্ছে।

 তাই হালকা নাস্তা করে আনুমানিক দুপুর 02:00 টার দিকে বাড়ির পথে রওনা হলো।

 বউ এসএমএস করেছিল এছাড়াও আমার সাথে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগ হলো।

 আনুমানিক বিকেল 5:00 টা। ফোন এলো সে বাড়িতে পৌঁছে গেছে।

আমি জিজ্ঞেস করলাম- “কখন আসলা?”

সে বললো- “এক আন্টির সাথে সমগ্র রাস্তা গল্প করে আসছি।” শুনে ভালো লাগলো।

 টেনশন কমে গেল। তার মামাতো ভাই ভোটমারি ইউনিয়নের ঘুন্টি বাজার নামক একটি জায়গা থেকে তাকে রিসিভ করেছে।

রাত আনুমানিক দশ’টা বউয়ের সাথে কথা বললাম। রাতের খাবার খেয়েছে এবং এখন ঘুমিয়ে পড়বে।

অবশেষে একটি ‘টেনশন’ এর অবসান ঘটলো।.....................।।

........................।।।

 

Sunday, February 7, 2021

“গৌরি’র ফোনালাপ ও অভিমান” পর্ব / দিগন্ত কুমার রায়

 

প্রতীক্ষার প্রেম, অত:পর বিয়ে (পর্ব-03)

দিগন্ত কুমার রায়

“গৌরি’র ফোনালাপ ও অভিমান” পর্ব

 

 দু’জনের মধ্যে সকাল দুপুর রাত অনবরত কথা হচ্ছে। এভাবে একদিন, দু’দিন করে সপ্তাহ চলে যাচ্ছে। ছেলেটি একদিন ভাবলো- ঢাকায় যাবার আগে মেয়েটির সাথে সাক্ষাত করা যাক। এজন্য রংপুর যেতে হবে। ছেলেটির ইচ্ছা হলো- হবু বউকে একটু সারপ্রাইজ দেয়া যাক। মানে- যোগাযোগ না করেই সাক্ষাত করার সিদ্ধান্ত নিল।

রংপুরে পৌঁছে মেয়েকে ফোন করা হলো। ছেলেটি নরমালি কথা বলছে। যেরকম, বাড়িতে থাকলে বলা হয়। হঠাৎ ছেলে বললো- “আমি আপনার সাথে দশ মিনিটের মধ্যে দেখা করতে চাই।” কিন্তু মেয়েটি রাজি হচ্ছে না। মেয়েটি মনে করলো- ওর সাথে মনেহয় ফান করা হচ্ছে।

 ছেলেটি যে বর্তমানে রংপুরে আছে একথা মেয়েটিকে কোনো ভাবেই বিশ্বাস করানো যাচ্ছে না।

কি আর করার? আশায় নিরাশা।

ছেলেটি ভাবলো- ওনি হয়তো আশাই করেননি। যে, তার সাথে কেউ দেখা করতে আসুক। আবার এটাও ভাবলো যে, মেয়েটির সাথে তো তার আগে কখনও সেভাবে সাক্ষাত হয়নি, পারসোনাল সমস্যা হয়তো থাকতে পারে, আবার শারীরীকভাবে অসুস্থও থাকতে পারে। আরো কতো কী। সেজন্য দেখা না করাটা অযৌক্তিক না।

 হয়তোবা সারপ্রাইজ দেয়ার কৌশলটায় একটু ভুল ছিল।

কিন্তু দলগ্রাম থেকে রংপুর দেখা করতে এসে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি কোন ভাবেই মেনে নেয়া যাচ্ছে না।

 

সাথে থাকা বন্ধুকে না জানিয়ে কেনা জীবনের প্রথম গোলাপটি কি করা যায় ভাবছে ছেলেটি। বাড়ির পথে রওনা হলো। পথিমধ্যে তিস্তা নদীর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুতে দাড়িয়ে ছেলেটি তার প্রিয় মানুষের জন্য কেনা ভালবাসার গোলাপটি তিস্তার নির্মল জলে অর্পন করলো। যেন নদীকেই সে তার প্রেমের সাক্ষী করে রাখলো।

 

কিছুক্ষণের মধ্যেই মেয়ের নাম্বার থেকে ফোন এলো। মেয়েটি জানতে চাইলো দেখা না করাতে মন খারাপ হয়েছে কি না?

ছেলেটি বললো- “কোনো অসুবিধা নাই। এতে মন খারাপ করারও কিছু নাই। আর এটা নিয়ে তুমিও মন খারাপ করো না”। এই বলে দু’জনে ফোন রেখে দিল ।

আসোলে সত্যিই ছেলেটির মন খারাপ হয়েছিল সেদিন। জীবনের প্রথম গোলাপটি না দিতে পারার দুঃসহ অনুভূতি ছিল মনে রাখার মতো।

পরদিন সকালে ফোন এলো। হাস্যেজ্জ্বল কণ্ঠে সরল, সাচ্ছন্দ্যে কথা বলছে মেয়েটি!! ছেলেটি আর মন খারাপ করে থাকতে পারলো না। যেন মন খারাপের সকল কারন কেড়ে নিল মেয়েটি।

ছেলেটি সেদিন বুঝতে পেরেছিল ভালোবাসার মানুষের সাথে মন খারাপ করে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। এভাবে, কথা চলে…….. দিন যায় তাদের দু’জনের মধ্যে জানা-শোনা, মায়ার বন্ধন আর ভালোবাসা সুদৃঢ় হতে থাকে। যেন সন্ধ্যার আকাশের দুটি তারা মিটিমিটি ভাব বিনিময় করছে।

 

18 জানুয়ারি 2021 (ঢাকায় আসার দিন)

দু’দিন পূর্বে তুষভাণ্ডারে এস.আর ট্রাভেল্স বাসের টিকেট কনফার্ম হলো। মেয়েটিকে জানানো হলো। মেয়েটি কিছুক্ষণ পরপর ফোন দিচ্ছে। বাস কখন আসবে, নাস্তা কি খাবে, কখন পৌছুবে। আরো কত কী?

যথারিতি সন্ধ্যে 7:55 মিনিটে বাস ছাড়লো। এ কথা ছেলেটি এসএমএস করে জানিয়ে দিল। লালমনিরহাটে পৌঁছালে দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণের কথোপকথোন হলো।

 

20 জানুয়ারি 2021 (সকাল 10:00)

ঢাকায় পৌঁছালে ছেলেটি এসএমএস করে জানাল-“আমি এসে গেছি গৌরি।” অপর দিক থেকে এসএমএস এর উত্তর আসলো- “ঠিক আছে ভোলানাথ।”

এরপর কথা চলে, দিন যায় তাদের মধ্যে অজানাকে জানা যেন পূর্ণতা পেতে থাকে।

 

কিছুদিন পর……

একদিন সন্ধ্যে 7:00 টা কিংবা 7:30 টার দিকে মেয়েটির ফোন আসলো। কণ্ঠে জড়তা, কিছু বলার অপেক্ষা। ছেলেটি বুঝতে পারলো মেয়েটি কিছু বলতে চায়।

কিন্তু সে কি বলতে পারে? ভাবছে ছেলেটি।

মেয়েটি এক বিঘা জমির বিষয়ে কথা বললো। ছেলেটি বিস্তারিতভাবে সবকিছু শুনলো। কিন্তু বিষয়টি ছেলের পরিবার মেনে নেবে কিনা তা একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাড়ালো।

ছেলেটি মেয়েটিকে আশ্বস্থ করে বললো- “আমি বিষয়টি বাড়িতে বলবো, তারপর দেখি কি অ্যান্সার আসে?”

“অ্যান্সার নেগেটিভ কিংবা পজিটিভ যাই আসুক না কেন মন খারাপ করা যাবে না।”- বললো ছেলেটি।

এদিকে মেয়েটি ভাবলো- ছেলে যেহেতু রাজি আছে। পরিবার অবশ্যই রাজি হবে।

কিন্তু ছেলের পরিবারের আত্মীয়স্বজন বিষয়টি সহজভাবে না নিয়ে নেগেটিভ অ্যান্সার দিল।

চিন্তায় পড়ে গেলো ছেলেটি।

ছেলেটিও মনের দিক থেকে চাচ্ছে না যে, বিয়ের পর বউয়ের পরিবারের সাথে অর্থ সম্পর্কিত কথা বলতে।

কারণ কথায় আছে- “আত্মীয়ের সাথে অর্থের বিষয় যতই কম কথা বলা যায় ততই শ্রেয়।”

ছেলেটি ভাবছে- কীভাবে মেয়েটিকে সে নেগেটিভ অ্যান্সার দিবে। এভাবে কিছু দিন যায়…..।

অবশেষে একদিন কথা বলার মাঝে জমি বিষয়ে মেয়েটির আশা-আকাঙ্খাকে ভেঙ্গে দিয়ে পরিবারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিলো।

মেয়েটি আশাই করেনি এ রকম কোনো অ্যান্সার আসবে। মেয়েটির মনের আকাশ নিমিশেই কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে গেলো। যেন, সবকিছু হারিয়ে গেলো। মেয়েটির নিজের বলতে যেন আর কিছু থাকলো না। কিন্তু কিছুই করার ছিল না।

মেয়েটির মনের সকল রাগ, অভিযোগ, অভিমান যেন নির্দোষ ছেলেটির উপর আছড়ে পড়লো…….।

এরপর আসছে- শ্যালিকাকথন।।

 

Monday, February 1, 2021

“গৌরি’র প্রাথমিক ভাব বিনিময়” পর্ব / দিগন্ত কুমার রায়

 

প্রতীক্ষার প্রেম, অত:পর বিয়ে (পর্ব-02)

দিগন্ত কুমার রায়

“গৌরি’র প্রাথমিক ভাব বিনিময়” পর্ব

09 জানুয়ারি 2021

বাকদান তো হলো। সময় যাচ্ছে, এক দিন.. দু’দিন.. তিন দিন। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে ডিজিটাল এই যুগে ছেলে পক্ষ ও মেয়ে পক্ষ উভয়েই যেন এ্যানালগ হয়ে গেছে। তারা মনেহয় ভাবছে- ছেলে মেয়ের যোগাযোগের কি দরকার?

কপোত-কপোতীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে যেন কারো কোনো দায়িত্ব নেই। ছেলে ভাবছে- কীভাবে যোগাযোগ করা যায়? কাউকে বলতেও পারছে না।

 

বৃষ্টি (ছেলের মামাতো বোন) এসেছে দু’দিন হলো। সে বাসায় যেতে চাচ্ছে এবং তাকে বাসায় পৌছায় দিলো। মেয়ে পক্ষের কিছু স্বজন ছেলেকে মামার বাসায় দেখে আশা করেছিল- ছেলে নিশ্চই নতুন হবু শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসবে। ছেলে নিজেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল- মেয়ে যেহেতু বাসায় আছে তাহলে দেখা করে আসা যাবে। কিন্তু জরুরী কাজ থাকার কারণে ছেলে আর দেখা করতে পারলো না। কোনো পক্ষের আশাই পূর্ন হলো না। মেয়ে রংপুরে চলে এলো।

 

…….দুপুরে স্নানের সময় মা লক্ষ্য করলো ছেলের শরীরে অসম্ভব রকমের ঘামাচি দেখা যাচ্ছে, যা শেষ পযন্ত এ্যালার্জি হিসেবে পরিগনিত হলো। এই এ্যালার্জি ছেলের শরীরে সমগ্র জীবনে একবারও দেখা যায়নি। এমনকি ইতিপূর্বে পরিবারের কেউ এ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়নি, যা বংশগতও নয়।

 

ছেলের ভাই (পল্লব) যেন রম্য করায় সুযোগ পেলো। সে বললো- “কালকে দিদি’র (গৌরি) সাথে দেখা করোস নাই, আর ওনার মন খারাপ করে দিছোস। সেই জন্যেই তোর এই শাস্তি, সারা শরীরে এ্যালার্জি। আ হা হা- কী যে মজা!!! দ্যাখ ক্যামন লাগে।”

ছেলের উত্তর- “তুই এখান থেকে যাবি? নাকি তোর গায়েও এ্যালার্জি মেখে দেবো।”

 

এদিকে, মা দুশ্চিন্তায় পড়লেন। বললেন- “তু্ই আজ থেকে প্রাণীজ আমিষ খেতে পারবি না। সব বন্ধ (মাছ, ডিম)।”

ছেলের জবাব- এ কি কথা!!! তাহলে খাবোটা কি?

মা বললো- “মাছ, ডিম ছাড়া অন্য কিছু খেতে হবে। সবজি দিয়ে খাবি….।” কিছু করার নাই।

 

এদিকে 14 জানুয়ারি 2021 ঢাকায় আসার তারিখ নির্দিষ্ট হলো। কিন্তু এ্যালার্জির কারনে তা পিছিয়ে 18 জানুয়ারি করা হলো।

একদিন সন্ধায় হঠাৎ অজানা নাম্বার থেকে ফোন এলো। সম্ভবত 09 জানুয়ারি হবে।

ছেলে- “হ্যালো। কে বলছেন? প্লিজ।”

অজানা মানুষ- “ক্যামন আছেন?” (নারীর কণ্ঠ)

ছেলে- “এখন ভালো আছি। কে বলছেন?”

নারী কণ্ঠ- “বলছি একজন। তো এখন কোথায় আছেন?”

ছেলে- “বুঝলাম একজন বলছেন। তো কে বলছেন? নাম কি? মানে, আমি কি আপনাকে চিনি”

নারী কণ্ঠ- “বলেন তো কে বলছি?”

(মেয়েটি চটপটে আর দারাজ কণ্ঠে কথাগুলো বলছিল)

ছেলে- “আশ্চর্য তো!! ওওও আচ্ছা। স্মৃতি নাকি?”

*(স্মৃতি ছিলো ছেলের বান্ধবি। যে মাঝে মাঝে বোকা বানানোর জন্য আননোন নাম্বার থেকে ফোন দিত। কিন্তু স্মৃতি নামটি কাকতালীয়ভাবে নারী কণ্ঠের নামের সাথে মিয়ে যায়। যা সত্যিই আশ্চযজনক)*

নারী কণ্ঠ- “স্মৃতি কে? কি হয় আপনার? গার্লফ্রেন্ড নাকি?”

ছেলে- “আরে না। বলেন তো কে বলছেন??”

নারী কণ্ঠ- “আমাকে গার্লফ্রেন্ড বানাবেন?”

ছেলে- “সে সুযোগ আর নাই। বাইকের পিছনের সিটটা বুক্ড হয়ে গেছে। আর আমি কমিটেড।”

নারী কণ্ঠ- “আমাকে গার্লফ্রেন্ড করতেই হবে।”

ছেলে- “আপনার পরিচয় দিলে দ্যান। নয়তো এক মিনিটের মধ্যে ফোন কেটে যাবে?

নারী কণ্ঠ- “আচ্ছা ফোন কাইটেন না। দিচ্ছি। আমি সম্পর্কে আপনার শ্যালিকা হবো। মানে, আপনার সাথে যার বিয়া ঠিক হইছে, সেই শেফালীর মাসিতো বোন। স্মৃতি বলছি।”

ছেলে- “ক্যামন আছেন আপনি?”

স্মৃতি- “ভালো। দিদির সাথে আপনার কথা হয়?”

ছেলে- “না। তবে নাম্বার খুঁজতেছি।”

স্মৃতি- “আচ্ছা আমি নাম্বার দিচ্ছি। কথা বলেন।”

এই স্মৃতিই ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে যোগাযোগের প্রথম মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। নাম্বার বিনিময় শেষে ফোন রেখে দেয়া হলো। ছেলেটি ‘বউ’ নামে নাম্বারটি সেভ করে রাখলো।

 

সন্ধ্যে 7:35 মিনিট। ছেলে আগ্রহের সাথে বউয়ের নাম্বারটি ডায়াল করলো- রিং হচ্ছে…..।  রিং বাজছে। শেষ মুহুর্তে রিসিভ করলো মেয়েটি। হ্যালো। এবং কথা শুরু হলো। ...